সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পূর্বঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই মিছিল বের করা হয়। তবে পুলিশের বাধা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের থামাতে না পারলেও বিভিন্নস্থানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন শিক্ষার্থীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। আর কর্মসূচি পালন করতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। রাজধানীর শাহবাগে সময় সংবাদের প্রতিবেদক ত্বোহা খান তামিম ও চিত্র সাংবাদিক প্রিন্স আরেফিনের ওপর হামলা চালিয়েছেন কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা। এ সময় আরেফিনের হাতে থাকা ভিডিও ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা হঠাৎ সময় সংবাদের প্রতিবেদক ত্বোহা খান তামিম ও ফটো সাংবাদিক প্রিন্স আরেফিনের ওপর চড়াও হয়। মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বাঁধা ও আবির নাম লিখা কালো রঙের জার্সি পরা এক যুবক সাংবাদিক তামিমের ওপর আঘাত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আরেকজনের হাত থেকে হেলমেট নিয়ে তামিমকে মারতে তেড়ে আসেন ওই যুবক। এ সময় কয়েকজন তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পুলিশে সদস্যদের। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকেই শাহবাগ মোড়ের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। বিকেল ৫টার কিছু সময় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন স্লোগানে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তবে শাহবাগ মোড়ে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কিছু সময় ধস্তাধস্তি হয়। অবশেষে ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশ সদস্যদের ঠেলে শাহবাগ মোড় ও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পিছু হটতে বাধ্য হন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় কিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপর উঠে উল্লাস করতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা। শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়ার পর থেকে রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোডগামী, বাংলা মোটরগামী, মৎস্য ভবনগামী ও টিএসসিগামী রাস্তায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়ার পর থেকে রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোডগামী, বাংলা মোটরগামী, মৎস্য ভবনগামী ও টিএসসিগামী রাস্তায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোটার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এছাড়া শাহবাগ মোড়ে পুলিশের একটি এপিসি কার ও জলকামান ছিল। শিক্ষার্থীরা সেগুলোর ওপরে উঠে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ গাড়ি দুটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সরিয়ে নেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থায় ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আন্দোলনস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগ থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে মিছিল নিয়ে শাহবাগ অবরোধে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তিতুমীর কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গাড়ি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আন্দোলনে যুক্ত হয়। যানবাহন আটকে দেয়ায় গত কয়েক দিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া লোকজন ভোগান্তিতে পড়েন। বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে হয় যাত্রীদের। এদিকে ক্যাম্পাসের চাঁনখারপুল মোড় ও ঢাকা মেডিক্যাল মোড় অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক মুসলিম হল ও অমর একুশে হলের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত ও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, কোটা বাতিলের দাবিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় কিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপর উঠে উল্লাস করতেও দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের এমন আচরণের পরও পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কোটা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অবকাশ ছিল না। তাই তাদের রাস্তায় না নামতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা নেমে পড়লেন। তারপরেও পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আশা করি গতকাল বৃহস্পতিবারই এটা (আন্দোলন) শেষ হবে। পুলিশ চায় না শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু হোক। তাদেরও বোঝা উচিত। তাদেরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে সাংবাদিকসহ ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে রওনা হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে। শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন সাংবাদিকও রয়েছেন। আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক আমাদের সময়ের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অনন মজুমদার ও চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি সৌরভ সিদ্দিকী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কোটবাড়ির আনসার ক্যাম্প এলাকায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারশেল মেরেছে, হামলাও করেছে। কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান বলেন, ছাত্রদের সড়কে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অপরদিকে সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা। ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা ও বিকেল সাড়ে ৩টার শাটল ট্রেনে করে চট্টগ্রাম বটতলী স্টেশনে পৌঁছে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের টাইগারপাস এলাকায় আসতে গেলে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন তারা। আধাঘণ্টাব্যাপী কথা-কাটাকাটি শেষে মিছিল নিয়ে সামনে এগোতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পুলিশি বাঁধা ভেঙে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডেইরি গেট এলাকায় অবরোধ মহাসড়ক অবরোধ করেন কোটা বিরোধী শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে জলকামান নিয়ে ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানার কয়েক শতাধিক পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। এর আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডেইরি গেইট এলাকায় অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা সড়কে আসার আগ থেকেই পুলিশ সদস্যরা যে যার মতো অবস্থান নিতে শুরু করেন। এ অবস্থায় বিকেল তিনটায় বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা শুরু করেন আরও পরে। বিকেল ৪টার দিকে তারা ক্যাম্পাসে ভেতর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে জড়ো হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সড়ক অবরোধ না করার অনুরোধ জানায়। কিন্তু এসব বাধা ও সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীরা জানান, অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে যৌক্তিক আন্দোলন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের পেটোয়া বাহিনীর লোকেরা সেই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ফন্দি আঁটছে। সারা বাংলার শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। যেকোনো মূল্যে আমরা দাবি আদায় করেই ছাড়বো। আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলবে। ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। যে কারণে আমরা শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ না করে ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থানের অনুরোধ করছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তারপরও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। আমরা যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে থাকবো। এছাড়াও কোটা সংস্কারের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর থেকে মিছিল বের করে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ করতেও দেখা যায়। পুলিশের ব্যাপক বাধা উপেক্ষা করে জোর করে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে নেয় শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনিও সড়ক অবরোধ থেকে বিরত থাকতে শিক্ষার্থীদের নিষেধ করেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, আমরা বরাবরের মতোই শান্তিপূর্ণভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাস্তায় জমায়েত হতে চাইলে পুলিশ আমাদেরকে বাধা দেন এবং কয়েকজনের ওপরে লাঠিচার্জ করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই এসব পুলিশি বাধায় কোনো কাজ হবে না, আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করেই যাব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জনদুর্ভোগ এড়াতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ করতে বাধা দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা জোর করে রাস্তা দখল করে নিতে চাইলে পুলিশ শিক্ষার্থীদেরকে বাধা দেন। তবে এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি। শিক্ষার্থীরা ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থানের পর বিকেল সোয়া ৫টায় অবরোধ তুলে নেয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন পরে সেই বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনরতরা রাবি স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। রাবির বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এ বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আর সেখানে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। কিন্তু আমাদের এ আন্দোলন যৌক্তিক। এখানে কেন পুলিশের হামলা হবে? আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন চলবে। এ সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান, রাবি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই, বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, কোটা প্রথার ঠাঁই নাই, মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী অপশক্তিরা নিপাত যাক, দেশ স্বাধীন করলো যারা, কেন অপমানিত হবে তারা, কোটা ব্যবস্থা বৈষম্য সৃষ্টি করে না বরং সমতা বিধান করে, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটাক্ষ চলবে না, চলবে না, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানহানি করা যাবে না- এ সময় এমন সব মুহুর্মুহু সেøাগান আর বিক্ষোভে প্রতিবাদ জানান তারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

* বিভিন্ন স্থানে পুলিশ-শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ফাঁকা গুলি * শাহবাগে সময় সংবাদের প্রতিবেদক ও চিত্র সাংবাদিকের ওপর হামলা * শিক্ষার্থীদের দখলে শাহবাগ, ঠেকাতে পারেনি পুলিশ * শাহবাগে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে পুলিশ: ডিএমপি * বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনে জবি শিক্ষার্থীরা * পুলিশের লাঠিচার্জের পরও সড়ক অবরোধ শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের * পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
পুলিশের বাধা পেরিয়ে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
- আপলোড সময় : ১২-০৭-২০২৪ ০৪:০২:৫৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-০৭-২০২৪ ০৪:০২:৫৪ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ